আংশিক লকডাউনে সমস্যার সম্মুখীনে জবাফুল চাষী
দি নিউজ লায়ন; আংশিক লকডাউনে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ফুলবাজার ঠাকুরনগর ফুল বাজারের জবাফুল চাষী, ক্রেতা এবং বিক্রেতারা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সরকারি বিধি অনুসারে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকায় অন্যান্য ফুল বিক্রি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সমস্যা হল জবাফুলের কুঁড়ি সাধারণত বিকেল বেলায় প্রস্ফুটিত হয়। তাই জবাফুল বিক্রির সময় আংশিক লকডাউনের আওতায় মধ্যে পড়ায় অবিকৃত অবস্থায় চাষীদের জবাফুল ফেলে দিতে হচ্ছে।
ফুল পচনশীল হওয়ায় প্রস্ফুটিত জবাফুল হিমঘরে রাখলে বিক্রির অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে সকালবেলায় একেবারেই নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, ক্রেতারাও ফুল কিনতে চাইছেন না। চাষীদের আবেদন, সরকার যদি তাদের বিক্রির সময়সীমা নিয়ে একটু ভাবেন তাহলে তাঁরা দু'বেলা দু'মুঠো ভাতের জোগাড় করতে পারবেন।
মঙ্গলবার সকালবেলায় গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ইলা বাগচী, গাইঘাটার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জয় সেনাপতি, যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কার্তিক রায় সহ গাইঘাটা থানার আধিকারিক বলাই কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে ঠাকুরনগর ফুল বাজার পরিদর্শন করা হয়। এই পরিদর্শন চলাকালীন সহ-সভাপতি এবং সরকারি আধিকারিকেরা চাষী, ফুল ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে সুবিধা অসুবিধার কথা শোনেন।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ঠাকুরনগর ফুলবাজার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আধিকারিকেরা ফুলক্রেতা ও বিক্রেতাদের হাতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। এর পাশাপাশি ফুলবাজার চলাকালীন ফুলবাজার সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারি বিধিনিষেধ নিয়ে জনসচেতনতা গড়তে অনবরত মাইকিং করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজারে প্রবেশের মুখে স্যানিটাইজ করে ঢোকানো হচ্ছে প্রত্যেককে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে বাজারঘাট। প্রত্যেকটি ফুল বিক্রেতাদের জায়গা গোল চিহ্ন করে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
জবাফুল ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের আশ্বস্ত করে সহ-সভাপতি ইলা বাগচী বলেন, আমরা সহানুভূতির সঙ্গে জবাফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সকলের অবস্থার কথা বিবেচনা করবো। সেইসঙ্গে সকল জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারি নিয়মবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে করোনা অতিমারীর মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। আমরা চাই বৃহত্তর ঠাকুরনগর ফুল বাজার আবার স্বমহিমায় ফিরে আসুক। সকলের সুস্থতা কামনা করি।

Post a Comment